এআই ডেটা সেন্টার ও সার কারখানায় মারুবেনির বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা
11 October 2026 —
বাংলাদেশে আগামী ১২ মাসের মধ্যে একটি অত্যাধুনিক এআই ডেটা সেন্টার চালু এবং সার কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বিশ্বস্ত প্রযুক্তি ও সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করার বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে মারুবেনি করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মারুবেনির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে তাদের চলমান ব্যবসায়িক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্ভাবনাময় উদীয়মান খাতগুলোতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশে বৈশ্বিক বিনিয়োগের অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশি-বিদেশি উদ্যোগকে উৎসাহিত করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যে মারুবেনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক শিল্প খাতেও এই সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
জাপানি প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং প্রকৌশলীদের কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে। বৈঠকে প্রকৌশল স্নাতকদের সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আরও দক্ষ করে তোলার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক মতামত উঠে আসে। মারুবেনির প্রতিনিধিরা মনে করেন, দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই বিশ্বমানের একটি প্রযুক্তি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রেও ইতিবাচক আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) বিদ্যমান জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ফলন বৃদ্ধি ও খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে কারিগরি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং মারুবেনির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com