বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস: স্টার্টআপ খাতে ৪০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল শুরু
20 September 2026 —
দেশের উদীয়মান স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে সরকার-সমর্থিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা করেন। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় স্টার্টআপগুলোতে দেশি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আকর্ষণ করা এবং দেশীয় উদ্ভাবনগুলোকে বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার এনে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও নতুন ধারণার কোনো অভাব নেই, তবে বিনিয়োগের অভাবে অনেক ভালো সম্ভাবনা আটকে থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার দেশে এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে কেবল অর্থাভাবে কোনো প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগ থেমে থাকবে না। স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল সরকারি সহযোগিতার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও এই বিকাশমান খাতে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন গতি দিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নতুন উদ্যোগকে কেবল মূলধন দিলে চলবে না, তাদের যোগ্য মেন্টরশিপ, প্রযুক্ত সহায়তা ও বৈশ্বিক সংযোগ দিতে হবে। দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করার পাশাপাশি অর্জিত মুনাফা ও মূলধন সহজে প্রত্যাবাসনে সরকার সব ধরনের আইনি সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে তহবিলের সার্বিক কার্যপদ্ধতি ও পরিচালনা কৌশল তুলে ধরেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নুরুল হাই। একই সাথে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ফান্ড ম্যানেজারদের নির্বাচন করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (REOI) আহ্বান করা হয়। তিনি জানান, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গঠিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে এই অর্থের সঠিক ও ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
গত এক দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টার্টআপ প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ جذب করলেও সেখানে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অবদান ছিল মাত্র সাত শতাংশের কাছাকাছি। নতুন প্রবর্তিত এই তহবিল দেশীয় বিনিয়োগের এই বড় ব্যবধান কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এটি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হাব হিসেবে পরিচিত করতে কার্যকর অবদান রাখবে বলে উদ্যোক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com