Marketing

ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের মামলা স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

image (2)

অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আম্বারীন রেজাসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব মামলা কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। আদালতে ফুডপান্ডা কর্মকর্তাদের পক্ষে আইনি শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং পরবর্তী সময়ে আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী এরশাদুল আলম।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ই-কমার্স ও সাপ্লাই চেইন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইপিইএল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’-এর স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পান্ডামার্টের অনুকূলে সরবরাহ করা পণ্যের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ডেটা মূল সফটওয়্যার থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা এবং ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) চালান তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়।

উক্ত মামলায় ফুডপান্ডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারীন রেজা ছাড়া অন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন—প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক। গুলশান থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তবে পরোয়ানা জারির পর আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন এবং পরবর্তীতে বিচারিক আদালত থেকে নিয়মিত জামিন লাভ করেন।

এদিকে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস (ডিএইচ স্টোরস) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এটি একটি সাধারণ বাণিজ্যিক ও পাওনা লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি এবং ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে হাইকোর্টের সর্বশেষ এই স্থগিতাদেশের ফলে নিম্ন আদালতে চলমান বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত থাকবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *