Marketing

সিটি কর্পোরেশনে ই-রিকশা নীতিমালা ২০২৬ জারি: গতিসীমা ২৫ কিমি ও ফি নির্ধারণ

wnb news 1793340178 xGvw8u

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিটি কর্পোরেশনে ই-রিকশা নীতিমালা ২০২৬ জারি করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২৯ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকা থ্রি-হুইলার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নীতিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক এই নতুন বিধিমালা দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত তিন চাকার স্বল্পগতির ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। এটি ২ বা ৪ জন যাত্রী পরিবহনের উপযোগী হতে হবে। কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন ছাড়া নগরীর সড়কে চলাচল করতে পারবে না। আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ফিটনেস সনদ ও ফি প্রদানের রশিদ জমা দেওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। নিবন্ধিত প্রতিটি বাহনকে কিউআর কোড সংবলিত অনন্য নম্বর ও নির্দিষ্ট রঙের পটভূমিতে সাদা অক্ষরের নম্বরপ্লেট প্রদান করা হবে।

নীতিমালায় নির্দিষ্ট ফি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। ২ আসনবিশিষ্ট অটো রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৪ আসনবিশিষ্ট ই-রিকশার জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা এবং ফিটনেস সনদ ফি ১০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ ৫ বছর এবং বাহনটির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, তবে এক সিটির নিবন্ধিত বাহন অন্য সিটিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেনে ই-রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জোনভিত্তিক নির্ধারিত রুটে রিকশা চালাতে হবে এবং এক জোনের যান অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। চালকদের সর্বদাই সড়কের বাম পাশের লেন অনুসরণ করতে হবে এবং ৪০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতিসীমা ১৫ কিলোমিটারে সীমিত রাখতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট বা অনুমোদিত গ্যারেজ ছাড়া ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে না এবং সোলার প্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। পুরনো বা অকার্যকর ব্যাটারি খোলা জায়গায় কিংবা জলাশয়ে ফেলা যাবে না; নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতারা পুরনো ব্যাটারি ফেরত নিতে বাধ্য থাকবেন। ম্যানুফ্যাকচারিং নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে বুয়েট ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সুপারিশ কমিটি গঠিত হবে। নিয়ম অমান্য করে নিবন্ধনহীন যান চালানো বা বিপজ্জনক ড্রাইভিং করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *