প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি: চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল বিমান
30 October 2026 —
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। জাপানের টোকিওস্থ নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রাক্কালে কারিগরি গোলযোগের মুখে পড়ে। ওই ঘটনার পেছনে আসল কারণ চিহ্নিতকরণ এবং দায় নির্ধারণে গঠিত এই কমিটিকে পরবর্তী চার কার্যদিবসের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর নিয়ামুল কবির স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক সার্কুলারের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, বিমানের পরিকল্পনা ও সময়সূচি বিভাগের প্রধানকে তদন্ত প্যানেলের আহ্বায়ক এবং আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপককে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রকৌশল উৎপাদন) এবং ফ্লাইট সেফটি বিভাগের উপ-প্রধান। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্যানেলটি এয়ারলাইনসের ভেতর থেকে যেকোনো কারিগরি বা অপারেশনাল বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার এখতিয়ার পাবে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, জাপানে চার দিনের দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে গত ২৯ অক্টোবর ঢাকায় ফেরার জন্য প্রস্তুত ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৭৭ নম্বর ফ্লাইটটি। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় উড্ডয়নের কথা থাকলেও উড্ডয়নের ঠিক আগে ককপিটে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। এর ফলে যাত্রা স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং বিমানটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গ্রাউন্ডেড অবস্থায় থাকে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বাণিজ্যিক যাত্রীদের টার্মিনাল লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে হয়।
পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিমানের নিজস্ব প্রকৌশল দল ও জাপানি প্রযুক্তিবিদরা যৌথভাবে মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বাধীন কারিগরি দল ত্রুটি সফলভাবে সমাধান করার পর স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে নারিতা বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
কমিটিকে মোট পাঁচটি নির্দিষ্ট নির্দেশনার (টপস অব রেফারেন্স) ওপর ভিত্তি করে তদন্ত পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারিতা বিমানবন্দরে ধরা পড়া কারিগরি ত্রুটির মূল কারণ ও শ্রেণিবিভাগ নির্ধারণ, উড্ডয়ন যোগ্যতা নিশ্চিতে মেরামত প্রক্রিয়ার সময়রেখা বিশ্লেষণ এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করা। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অবহেলা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) কোনো লঙ্ঘন হয়েছিল কি না তা বের করে ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য ভবিষ্যতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক নীতিমালা সুপারিশ করবে এই প্যানেল।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com