Marketing

দিলীপ আগরওয়ালাকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ আদালতের

image (2)

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ আগরওয়ালা-কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। সোমবার দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন আদালতে আসামিকে এই দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর সপক্ষে আবেদন জানান। ওই শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে তার অর্জিত আয়ের উৎসের সঙ্গে সংগতিহীন ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও নিজ দখলে রাখার সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার সরাসরি অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্রে দুদকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দিলীপ আগরওয়ালা ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত অন্তত ৩৪টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান মিলেছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংক হিসাবগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ টাকারও বেশি জমা হয় এবং প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই হিসাবগুলোর মাধ্যমে সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিশাল আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে, যা অপরাধলব্ধ আয় হিসেবে স্থানান্তর, রূপান্তর ও পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত।

নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ব্যবসায়িক আড়ালে এমন বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলাটি রজু করা হয়েছিল। মামলা করার পর থেকেই কমিশনের একটি বিশেষ তদন্ত টিম এই ঘটনার বিশদ অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে এবং সন্দেহভাজন ট্রানজেকশনগুলোর ওপর নজরদারি রাখছে।

আদালতের দেওয়া এ আদেশের ফলে মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, অর্থপাচারের পেছনে থাকা মূল সিন্ডিকেট উন্মোচন করা এবং দেশের বাইরে কোনো অর্থ পাঠানো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অপরিহার্য ছিল। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের উপস্থাপন পর্যবেক্ষণ করে দুদকের আবেদনটি মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত দেন।

প্রসংগত, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ইতো আগেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। তবে দুদকের দায়ের করা এই ১১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পৌনে আটশত কোটি টাকার ব্যাংক লেনদেনের মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশের আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী সংস্থাটি। আগামীতে এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *