ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
2 November 2026 —
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানের দক্ষতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সরকারপ্রধান এই নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় জননিরাপত্তা জোরদারে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় দেশের সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রী ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘জাতীয় বিল্ডিং কোড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ ও নিয়মবহির্ভূত বহুতল ভবন গড়ে ওঠার কারণে দুর্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরের পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জরুরি সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং ক্ষয়ক্ষতির হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বিত তৎপরতা অপরিহার্য।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনা, হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কাঠামোগত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরপরই যেন স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয় এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ এবং উদ্ধারকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারি প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্যোগবিষয়ক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। ভূমিকম্প চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে কীভাবে নিরাপদে থাকতে হবে—সে বিষয়ে সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com