Marketing

মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী, ডাটার স্বাধীনতার ওপর জোর

image (2)

মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রধান কার্যালয়ে নবস্থাপিত এই বিশেষায়িত ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি তথ্যের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার পরিধি আরও বাড়াতে উপাত্ত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

উদ্বোধনের পর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত এই মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা। এর মাধ্যমে অনুমোদিত শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও তথ্য বিশ্লেষকেরা জাতীয় শুমারি ও বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক জরিপ থেকে সংগৃহীত নাম-পরিচয়হীন উপাত্ত বা মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। ফলে প্রমাণভিত্তিক গবেষণা, থিসিস তৈরি ও সময়োপযোগী সরকারি নীতি প্রণয়নে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী পরিসংখ্যান ব্যুরোর সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ তাগিদ দেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির স্বার্থে বিবিএসের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি দ্রুত আধুনিকীকরণের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকারি তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একটি বিশেষায়িত ‘পরিসংখ্যান একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভুল উপাত্তই যেকোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। বিবিএস প্রতিনিয়ত মাঠপর্যায় থেকে যে বিপুল উপাত্ত সংগ্রহ করে, তা নতুন এই ল্যাবের মাধ্যমে আরও নিরাপদ ও গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো। ডাটা থেকে জ্ঞান সৃষ্টি এবং সেই জ্ঞানের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, এই ল্যাবের সূচনার মাধ্যমে দেশের তরুণ গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো। এর সুবাদে জাতীয় ডাটার সঠিক ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি নীতির প্রভাব মূল্যায়নে গবেষণা জোরদার হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার এবং বিবিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জোর দিয়ে জানান, উত্তরদাতার গোপনীয়তা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখে সংবেদনশীল ডাটায় প্রবেশাধিকার দেওয়াই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। টেকসই প্রযুক্তিতে নির্মিত এই অবকাঠামো দায়িত্বশীল ডাটা ব্যবহারের একটি আন্তর্জাতিক মানের মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *