সিরাজগঞ্জে যুবলীগ কর্মী গ্রেফতার: মহাসড়কে বিক্ষোভের ঘটনায় আরও ৩ জন আটক, ৪ পুলিশ প্রত্যাহার
30 October 2026 —
সিরাজগঞ্জে যুবলীগ কর্মী গ্রেফতার अभियाনের অংশ হিসেবে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে পুলিশের গাড়ির সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ নিয়ে মহাসড়কের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্ষোভের ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হলো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, নতুন করে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের বাসিন্দা ও যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (৩১), সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া মহল্লার আশরাফুল ইসলাম সোহাগ (২৮) এবং রানীগ্রাম মধ্যপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ সাজু (১৭)। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান আটকের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তিনজনই পুলিশ ভ্যানের সামনে হওয়া ঝটিকা মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে ওসি জানান, আটক দুই যুবলীগ কর্মীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঘটে যাওয়া হত্যা মামলায় এবং ছাত্রলীগ কর্মী সাজুকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সোপর্দ করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে পুলিশ ভ্যানের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেছিলেন।
এর আগে মিছিলের দিনই পুলিশের বিশেষ অভিযানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি লিটন শেখ, ছাত্রলীগ কর্মী আগুন শেখ, যুবলীগ কর্মী চান শেখ এবং সয়দাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। নতুন তিনজনকে নিয়ে মামলাটিতে মোট আটকের সংখ্যা সাতে পৌঁছাল। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, টহল ভ্যানের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় দায়িত্বে চরম অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আমলে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং তিনজন কনস্টেবলকে ইতিমধ্যে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার বা ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জে ঘটে যাওয়া আরেকটি পৃথক ঘটনায় সদর উপজেলার চায়না ক্রস বাঁধের ৪ নম্বর এলাকা সংলগ্ন যমুনা নদী থেকে সবুজ (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নদীতে ভাসমান মরদেহ দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে সদর নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। নিহত যুবক নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার খোকন মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সিরাজগঞ্জ থানা পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, মহাসড়কে আইন অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা জুড়ে পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com