Marketing

পরিবেশ ও বন রক্ষায় বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

wnb news 1792077355 N3hv8Q

ঢাকা: পরিবেশ ও বন রক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণকে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়েও অতিরিক্ত উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক দূষণ সূচকে ঢাকার নাম নিয়মিত শীর্ষে থাকা দেশের জন্য চরম লজ্জাজনক উল্লেখ করে বায়ুদূষণ রোধ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক বিশেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পরিবেশ সুরক্ষায় শুধু দাপ্তরিক কাজ বা সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি স্তরে সর্বসাধারণের ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

পরিবেশ ও বন রক্ষা কার্যক্রমে গতি আনতে সভায় বেশ কিছু মাইলফলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নির্দেশনাসূত্রে জানানো হয়, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘মাদার ট্রি’ বা মা-গাছগুলো চিহ্নিত করে সার্বিক সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রোপণকৃত চারার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল চারা লাগালেই কাজ শেষ হয় না, রোপণ করা চারাগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়নের পরিধি বাড়াতে নতুন কৌশল বের করার তাগিদ দিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় নিজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গাছ রোপণে পিছিয়ে পড়লে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

নগরজীবনে মানুষের প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসার সুযোগ সংকীর্ণ হয়ে আসার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পার্ক ও সবুজ বিনোদন ক্ষেত্র বাড়ানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির ছাদবাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ ও ভবনসমূহে বাগান তৈরিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত পরিকল্পনাগুলোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে একটি পৃথক সচেতনতামূলক প্রচার কর্মসূচি পরিচালনার প্রতিও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধান বলেন, শুধু নয়টা-পাঁচটা অফিস করে দায়িত্ব শেষ মনে করলে চলবে না। কারণ পরিবেশের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটলে তার চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। দেশের স্বার্থে এবং আগামী দিনের সুরক্ষায় সবাইকে অর্পিত ক্ষমতার বাইরে গিয়েও বাড়তি পরিশ্রম করার আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খান উপস্থিত ছিলেন।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *