Marketing

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি: তদন্তে ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

image (2)

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঘটনায় মূল কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি জাপানের টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকা থাকার পর শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর এই প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর নিয়ামুল কবিরের স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক সার্কুলারের মাধ্যমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সার্কুলার অনুযায়ী, বিমানের পরিকল্পনা ও সিডিউলিং বিভাগের প্রধানকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবং আইন বিষয়ক ব্যবস্থাপক পালন করবেন সদস্য সচিবের দায়িত্ব। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রকৌশল উৎপাদন) এবং উপ-প্রধান (ফ্লাইট সেফটি)। এছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে যেকোনো কারিগরি, এভিওনিক্স বা অপারেশনাল বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, চার দিনের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে জাপানের রাজধানী টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধি দলের। নির্ধারিত ফ্লাইট বিজি-৩৭৭ স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায় উড্ডয়নের কথা থাকলেও টেকঅফের ঠিক পূর্বে ককপিটে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে উড্ডয়ন স্থগিত করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও সাধারণ যাত্রীরা বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

ঘটনার পর পরই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়। বিমানের প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একদল বাংলাদেশি প্রকৌশলী এবং জাপানি টেকনিশিয়ান যৌথভাবে কাজ করে ত্রুটি দূর করেন। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ জানান, সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফ্লাইটটিকে এয়ারওয়ার্দি ঘোষণা করা হয় এবং বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশ্যে নারিতা বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

তদন্ত কমিটির জন্য সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা কর্মপরিধি বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে উড্ডয়নের পূর্বে সংঘটিত কারিগরি ত্রুটির মূল কারণ ও প্রকৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে। একই সাথে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর তা মেরামতের পুরো পদক্ষেপ, সময়সূচি এবং উড্ডয়নযোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি যথাযথ ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। উড্ডয়ন বিলম্বের ফলে বিমানের কতখানি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব পড়েছে, তারও হিসাব তৈরি করা হবে।

এছাড়া প্রকৌশল ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের কোনো গাফিলতি, যোগাযোগে বিভ্রাট বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তদন্ত করে ব্যক্তি বা বিভাগীয় দায় নির্ধারণ করা হবে। ভবিষ্যতে ভিভিআইপি সফর এবং নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ফ্লাইটে এ ধরনের যান্ত্রিক বিভ্রাট রোধে একটি স্থায়ী প্রতিরোধমূলক নীতিমালা সুপারিশ করবে এই কমিটি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তদন্ত দল তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *