প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়াই মূল লক্ষ্য: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
2 November 2026 —
প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘জবি দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথাগত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পেছনে অন্ধভাবে না ছুটে দেশের যুবসমাজকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান বাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উচ্চশিক্ষায় গুণগত রূপান্তরের তাগিদ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তাইওয়ানের মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার বিস্তার ঘটানো জরুরি বলে তিনি অভিমত দেন।
দেশের শিক্ষা খাতের অতীত সংস্কারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত শাসনব্যবস্থায় শিক্ষা ক্ষেত্রে অপসংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করানো হয়েছিল। শুধুমাত্র সনদ অর্জন কিংবা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হতে পারে না। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও মৌলিক গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশল সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদে কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব নয়। নতুন প্রযুক্তি ও উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পক্ষেত্র তৈরিতে বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী পাঁচ বছরের সংকীর্ণ চিন্তা না করে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৬ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ইতিহাস স্মরণ করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও শিক্ষা সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০০ একর জমিতে আধুনিক ক্যাম্পাসের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর সিদ্ধান্তকেও তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জাতীয় ঐক্য ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com