Marketing

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যৌথ সহযোগিতার অঙ্গীকার

image (2)

টোকিওতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক-এ দুই দেশের মধ্যবর্তী অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং অবকাঠামোগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের সূচনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নতুন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সরকারি ও বেসরকারি খাতের আরও নিবিড় অংশগ্রহণ আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও উন্নত ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে একটি আধুনিক ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ মহাকাশ গবেষণার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য উল্লেখ করে বৈঠকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ আহ্বান করা হয়। পাশাপাশি দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের জন্য জাপানের কারিগরি সহায়তা ও অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সহজ করতে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

চার দিনের এই সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে পৃথক বৈঠক সম্পন্ন করেন। এসব বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন, দেশে দ্বিতীয় একটি নতুন সার কারখানা স্থাপন এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রামে বিনিয়োগ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। জাইকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দক্ষতা অংশীদারত্ব বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তির প্রসঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে একটি মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনঃব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *