Marketing

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা জারি, সর্বোচ্চ গতিসীমা ২৫ কিমি

wnb news 1793351065 0fSFcT

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা ২০২৬ জারি করেছে সরকার, যার মাধ্যমে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নগরাঞ্চলে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কঠোর দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং অতিরিক্ত জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ই-রিকশার সার্বিক কারিগরি নকশা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন এটি কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করতে না পারে। যানবাহনগুলোতে চালকের সামনে গতি পরিমাপের জন্য স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার সংযোগ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে কেবল অনুমোদনপ্রাপ্ত যানবাহনই সড়কে নামানো যাবে।

নতুন নীতিমালায় যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী চালক ব্যতীত সর্বোচ্চ দুই থেকে চারজন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। তবে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক ভারী পণ্য বহন করা যাবে না, কেবল যাত্রীদের হাতব্যাগে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল পরিবহনের সুযোগ থাকবে। এছাড়া পরিবেশ ও পথচারীদের বিরক্তি এড়াতে ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ উৎপন্ন করে এমন যেকোনো উচ্চশব্দের হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রিকশাচালকদের জন্য কঠোর ড্রাইভিং নির্দেশিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালকদের সর্বদা সড়কের বাম দিকের লেন ব্যবহার করে যানবাহন চালাতে হবে। গাড়ি চালানো অবস্থায় চালক মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন বা অন্য কোনো যানবাহনকে ওভারটেক করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বিআরটি করিডোরে ই-রিকশা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত কিংবা প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সড়কে এসব যানবাহন চালানো যাবে না।

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে রুট ও জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা চালুর বিধান রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথ আলোচনার মাধ্যমে ই-রিকশা চলাচলের নির্দিষ্ট রুট ও এলাকা নির্ধারণ করবে। প্রতিটি যান কেবল তার নিজ জোনেই চলাচল করতে পারবে এবং এক জোনের গাড়ি অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। সরকারের বিশ্বাস, এই সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর হলে শহরের সড়ক নিরাপত্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *