Marketing

অনলাইন ব্র্যান্ডের শোরুমে বিশৃঙ্খলা: পল্লবীতে ‘ফ্রি শপিং’ অফার ঘিরে ভাঙচুর

image (2)

রাজধানীর পল্লবীতে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের নতুন আউটলেট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে অনলাইন ব্র্যান্ডের শোরুমে বিশৃঙ্খলা, হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে ‘লাইভ শপিং’ নামের ওই এফ-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ‘ফ্রি শপিং’ অফারের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেখে বিপুল সংখ্যক মানুষ একযোগে ভিড় জমালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উক্ত বিক্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের নতুন আউটলেট উদ্বোধন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা জানায়। ওই প্রচারণায় বড় অক্ষরে ‘ফ্রি শপিং’-এর ঘোষণা দেওয়া হলেও অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকারে ‘শর্ত প্রযোজ্য’ বিষয়টি উল্লেখ রাখা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে শত শত মানুষ পল্লবীর নবনির্মিত বিক্রয়কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হন। তবে আউটলেটে প্রবেশের পর বিজ্ঞাপনের সঙ্গে বাস্তব শর্তের অমিল দেখতে পেয়ে উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গ্রাহক ও শোরুম কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ধস্তাধস্তি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, অনলাইন প্রচারণায় বিজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ শর্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে না তোলার কারণেই এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্রেক হয়েছে। অত্যন্ত ছোট হরফে শর্তের কথা লেখা থাকায় সাধারণ ক্রেতারা মূল বিষয়টি বুঝতে পারেননি এবং বিনামূল্যে কেনাকাটার আশায় বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে জড়ো হন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সেদিনের মতো শোরুমের সব ধরনের বিক্রয় কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে উপস্থিত ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ভিউ ও ট্রাফিক পাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ব্র্যান্ডটি পরিকল্পিতভাবে অস্পষ্ট ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল। তাদের দাবি, প্রচারণার সময় কোনো বাস্তবসম্মত শর্ত উল্লেখ না করে কেবল ‘ফ্রি শপিং’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে শোরুমে ক্রেতাদের সরাসরি আকৃষ্ট করার পর হঠাৎ নতুন কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা প্রত্যক্ষ ডিজিটাল জালিয়াতির শামিল।

অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি জরুরি বার্তা প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে নবনির্মিত বিক্রয়কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিষয়টিকে মূলতঃ অস্পষ্ট বিজ্ঞাপনজনিত বিভ্রান্তি এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া লোকসমাগম বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্র্যান্ডগুলোর বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে গ্রাহক আকর্ষণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সঠিক শর্তাবলী স্পষ্ট না করার ফলে প্রায়শই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। পল্লবীর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিক্রয়কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *