Marketing

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মোকাবিলায় কোনো সরকারই প্রস্তুত নয়: বিল গেটস

wnb news 1790564794 iu3yAp

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ এবং এর বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সামলানোর জন্য পৃথিবীর কোনো দেশের সরকারই প্রস্তুত নয় বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রযুক্তিটির অতি দ্রুত অগ্রগতির ফলে সৃষ্ট কর্মসংস্থান সংকট, সাইবার আক্রমণের ভয় এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক আসক্তির মতো জটিল সমস্যাগুলো সামাল দেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি বৈশ্বিক পর্যায়ে একেবারেই অপ্রতুল।

প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির সঙ্গে বিশ্বের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আইনপ্রণেতারা বহুদূরে পিছিয়ে রয়েছেন বলে মনে করেন বিল গেটস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির আকস্মিক আগমন ও সার্বিক বিস্তারকে তিনি বিজ্ঞান কল্পকাহিনির চলচ্চিত্রের কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা ‘এলিয়েন’ আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেটস উল্লেখ করেন, রূপালী পর্দায় যেমন কোনো বহিরাগত শক্তির সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলো এক হয়ে লড়াই করে, ঠিক তেমনি এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলাতেও বিশ্বের সব দেশের তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ঐক্য প্রয়োজন।

বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের কাছে এই ইস্যুটির গুরুত্ব তুলে ধরতে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছেন এই ধনকুবের। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির রূপরেখা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঐক্যের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষভাগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে এআই প্রযুক্তির কেবল নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকিই নয়, এর বিশাল ইতিবাচক সম্ভাবনার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিল গেটস। তিনি বলেন, সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিক্ষা খাতে এআই বিশ্বজুড়ে এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটাতে পারে। বিশেষ করে অনগ্রসর অঞ্চলে নতুন ওষুধ আবিষ্কার, রোগ নির্ণয় এবং বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়া নির্মূলের পাশাপাশি শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে এই আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বড় আকারের অর্থনৈতিক অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী দুই বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষম ব্যবহার ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে অন্তত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করবে সংস্থাটি। এই তহবিলের বড় একটি অংশ প্রান্তিক অঞ্চলের নিজস্ব ভাষায় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম তৈরি এবং স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে ব্যবহার করা হবে, যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীও এর সুফল পেতে পারে।

পরিশেষে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ রুখতে বিল গেটসের এই হুঁশিয়ারি বিশ্বনেতাদের জন্য এক জরুরি সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক নীতি ও সমন্বিত আইনি কাঠামো গঠন করা সম্ভব না হলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *