মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী, ডাটা ব্যবহারে নতুন দিগন্ত
27 September 2026 —
মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে তথ্যনির্ভর গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রধান কার্যালয়ে নবস্থাপিত এই ল্যাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি তথ্যের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং উপাত্ত প্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, সঠিক জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য ডাটা।
নবস্থাপিত এই নিরাপদ অনসাইট ল্যাবের মাধ্যমে অনুমোদিত গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় শুমারি এবং বিভিন্ন জরিপের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা অত্যন্ত সুরক্ষিত পরিবেশে বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। বিবিএস নিয়মিতভাবে বিস্তৃত জাতীয় শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে যে বিশাল পরিমাণ উপাত্ত তৈরি করে, তা এতদিন নিয়ন্ত্রিত উপায়ে গবেষণায় ব্যবহার করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই ব্যবস্থার ফলে ডাটা থেকে জ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞানকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর গতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের উন্নয়ন এবং পেশাদারিত্ব ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিবিএসের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি যুগোপযোগী করার নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে সরকারি নীতি-নির্ধারণী প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারি পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশে একটি অত্যাধুনিক ‘পরিসংখ্যান একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থী ও অর্থনীতিবিদদের জন্য মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত হলে গবেষণা ও সরকারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্র আরও বাস্তবসম্মত ও শক্তিশালী হবে। এতে করে জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার উপাত্তের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি সমন্বিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, টেকসই প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত এই ল্যাবটি দায়িত্বশীল গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখবে। মতবিনিময় সভায় বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোঃ মীর হোসেনসহ পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে গবেষক সমাজে ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, এই আধুনিক ল্যাব স্থাপনের ফলে তা অনেকাংশে দূর হবে। জাতীয় শুমারি ও জরিপের উপাত্তের সুশৃঙ্খল ব্যবহারে একদিকে যেমন একাডেমিক থিসিস ও কর্মসূচি মূল্যায়নের মান উন্নত হবে, অন্যদিকে উপাত্তভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে এই পদক্ষেটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com