জাতিসংঘে এআই ও মানবাধিকার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ, নেতৃত্বে বাংলাদেশ
9 October 2026 —
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসার ও মানবাধিকারের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি বৈশ্বিক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের একটি কোর গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে উত্থাপিত ‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে গৃহীত হয়। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।
গৃহীত এই আন্তর্জাতিক প্রস্তাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও প্রযুক্তির সম্ভাবনার প্রসারের পাশাপাশি মানব মর্যাদা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল কেন্দ্রে রাখার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিশেষ খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে এবং স্থায়ী মিশন পেন হোল্ডার হিসেবে কোর গ্রুপের হয়ে প্রাক-অধিবেশন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত অনুমোদন পর্যন্ত সব আন্তর্জাতিক পরামর্শ সভায় নেতৃত্ব প্রদান করে।
বাংলাদেশের সমন্বয়ে গঠিত আট জাতির এই শক্তিশালী কোর গ্রুপে সদস্য হিসেবে আরও রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, মিশর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপাল। খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দল জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অর্জনে সক্ষম হয়। খসড়া উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ স্পষ্ট করে বলে যে, এআই বর্তমানে বৈশ্বিক সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত রূপান্তরের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে, যার কারণে এই প্রযুক্তির বিকাশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যিক।
অনুমোদিত এই প্রস্তাবটিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার ও সুবিধার কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনী সুফল যেন বিশ্বের সমস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে পৌঁছায়। এজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়।
কূটনৈতিক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মতো সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সংস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাবের গ্রহণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করল। একই সঙ্গে উদীয়মান বৈশ্বিক প্রযুক্তি পলিসি তৈরিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ও সফল নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের ভাবমূর্তি ও অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com