Marketing

অ্যামাজনে কর্মী ছাঁটাই: রিটেইল খাত থেকে বাদ পড়ছেন এক হাজার কর্মী

wnb news 1791482666 EwStaO

বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনে কর্মী ছাঁটাই-এর নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মূল খুচরা বা রিটেইল ব্যবসার ‘স্টোরস’ বিভাগ থেকে অন্তত ১ হাজার শ্বেতপদ্ম বা হোয়াইট-কলার কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের বৈশ্বিক কেনাকাটার উৎসব ‘প্রাইম বিগ ডিল ডেজ’ চলাকালেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামাজনের এই সর্বশেষ ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারত ও যুক্তরাজ্যের অফিসে কর্মরত বেশ কিছু কর্মীও ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুত হওয়ার নোটিশ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মাধ্যম স্ল্যাকে (Slack) কর্মীরা তাঁদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক গ্রাহক সেবা এবং বিক্রেতা সহায়তা বিভাগে কর্মরতরা এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার ও কৌশলের সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের মতে, পরিবর্তিত ই-কমার্স বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মীবাহিনীর ভারসাম্য রক্ষা করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে ব্যস্ততম কেনাকাটার মৌসুমে কর্মীদের ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরের পরিবেশ বেশ ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।

করোনা মহামারী চলাকালে বিশ্বজুড়ে অনলাইন কেনাকাটার পরিমাণ অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অ্যামাজন তাদের কর্মীবাহিনী ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোস জানান, মহামারীর সেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রয়োজন অপেক্ষা অনেক বেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হলে এত বিপুল পরিমাণের কর্মীবাহিনী পরিচালনা করা কোম্পানির জন্য পরিচালনাগত দিক থেকে বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

চলতি ছাঁটাইটি অ্যামাজনের সার্বিক পরিচালনা খরচ কমানো এবং সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। উল্লেখ্য, গত বছর থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ই-কমার্স জায়ান্টটি পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ভাব এবং মহামারী পরবর্তী সময়ে অনলাইন কেনাকাটার গতি স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসার কারণে অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যয় সংকোচনে জোর দিচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিচালনা ব্যয় হ্রাসের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি খাতে এই ধরনের ছাঁটাই আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে। নতুন এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি অ্যামাজন।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *