Marketing

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে স্নায়ুযুদ্ধ: মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা বিতর্ক

wnb news 1789592499 fwXM16

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এখন আর কেবল প্রযুক্তি খাতের বিকাশ বা গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষমতার মূল চাবিকাঠিতে। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র রূপ নিয়েছে দ্বিমুখী আলোচনা। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের বিকাশ শ্লথ করার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, অন্যদিকে এ প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিল গেটসসহ বিভিন্ন গবেষক ও বিশ্বনেতারা।

বর্তমান ভূরাজনীতিতে এআই প্রযুক্তির আধিপত্য অর্জনের লড়াই মূলত সেমিকন্ডাক্টর চিপ, উন্নত ডাটা সেন্টার ও মডেল তৈরির সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এআই গবেষণার শীর্ষস্থান ধরে রাখতে চীনের ওপর উন্নত চিপ ও প্রযুক্তি রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। তবে এসব নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও চীন নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো, শিল্প উৎপাদন ও আঞ্চলিক ডাটা ব্যবহার করে মার্কিন অগ্রযাত্রার সঙ্গে ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে। এমনকি চীনের বেইজিং ই-টাউন ২০৩০ সালের মধ্যে বিশাল অংকের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বৈশ্বিক এআই কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের উদ্যোগ জোরদার করেছে।

প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির প্রতিযোগিতা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রযুক্তি অঙ্গন ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রপিকের সিইও ডারিও আমোদেই এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ গবেষক অনিয়ন্ত্রিত এআই বিকাশকে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে প্রযুক্তিগত গতি কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যানও নিরাপত্তা বেষ্টনীর পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈশ্বিক শীর্ষস্থান ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন বজায় থাকবে এবং সমালোচনাকে তিনি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার জন্য বিশ্বের কোনো দেশের সরকারই এখন পর্যন্ত প্রস্তুত নয় বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এআই প্রযুক্তির আকস্মিক বিকাশকে ভিনগ্রহের প্রাণীদের আগমনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, সাইবার আক্রমণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান হারানো এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর মতো সমস্যাগুলো সামলাতে বিশ্বনেতাদের অবিলম্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রান্তিক অঞ্চল ও স্বাস্থ্যখাতে এআই নিশ্চিত করতে ১ বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগের ঘোষণা দেন।

নিরাপত্তা কাঠামোর অভাব এবং ভুয়া তথ্যের অবাধ বিস্তার প্রযুক্তিটির বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে রাজনৈতিক অপপ্রচার ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ধরণের অপব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী কার্যকর আইনগত ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার দাবি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এখন বৈশ্বিক নেতৃত্বের নতুন মাপকাঠি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তি সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং মানবজাতির সুরক্ষার তাগিদে আগামী দিনগুলোতে নিরাপত্তা বনাম অগ্রগতির এই ভূরাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Published with WpNewblogwww.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *