রাজস্ব ফাঁকি: অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘জে ক্রিয়েশন’-এর ৩.৭৬ কোটি টাকার ফাঁকি উদঘাটন
17 September 2026 —
রাজধানীর মিরপুরভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর ফ্যাশন হাউজ ‘জে ক্রিয়েশন’-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জব্দকৃত ডিজিটাল দলিলাদি ও কম্পিউটারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ফাঁকিকৃত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অনলাইন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত বিক্রি গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার গোপন তথ্য আসছিল। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটের একটি বিশেষ অভিযান দল মিরপুরে অবস্থিত জে ক্রিয়েশনের মূল কার্যালয় ও শোরুমে আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করে। অভিযানকালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির আলামত দেখতে পান পরিদর্শকরা। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য আইনানুযায়ী মূসক-১২.৩ চালানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বা সিপিইউসহ বিভিন্ন আর্থিক দলিলাদি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
আটককৃত ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ও ব্যবসায়িক নথিপত্র দু’দিন ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করেন ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তাগণ। সেখানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূলত পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি এবং হরেক রকমের আধুনিক তৈরি পোশাক অনলাইনের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিক্রি করত। তবে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রকৃত বিক্রয় পরিমাণ এবং সরকারি খাতায় প্রদর্শিত হিসাবের মধ্যে বিশাল তফাত রয়েছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ডাটাবেজে সংরক্ষিত ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করেই ভ্যাট কর্তৃপক্ষ প্রদেয় কর ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অনলাইন ও ডিজিটালভিত্তিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে রাজস্ব বিভাগ এখন থেকে নজরদারি আরও কঠোর করছে। এনবিআরের মুখপাত্র জানান, উদ্ধারকৃত দলিলপত্র ও ডিজিটাল রেকর্ডপত্রগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি পাওনা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে জে ক্রিয়েশনের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ই-কমার্স ও ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা এফ-কমার্স দ্রুত প্রসার লাভ করায় বেশ কিছু অনলাইন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রাজস্ব প্রদানে অবহেলা করছে বলে অভিযোগ উঠছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করেন, ডিজিটালাইজেশনের যুগে কাঁচামাল ক্রয়, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হওয়া লেনদেন ট্র্যাক করা এখন পূর্বের চেয়ে অনেক সহজ। ফলে ঘোষিত আয়ের সাথে অসঙ্গতি ধরা পড়লে কোনো প্রতিষ্ঠানই পার পাবে না। জে ক্রিয়েশনের এই ঘটনাটি দেশের অন্যান্য অনলাইন বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ভ্যাট আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা।
ভ্যাট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সঠিক নিয়ম মেনে নিবন্ধন ও ইলেকট্রনিক চালানের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হলে একদিকে যেমন জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অনলাইন বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশও বজায় থাকবে। ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষা এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আগামী দিনে ই-কমার্স খাতের ওপর সরকারের মনিটরিং ও আইনি কড়াকড়ি আরও জোরদার করা হবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com