Marketing

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প: জামানতহীন ঋণ ও অনুদান পাবেন তরুণ উদ্যোক্তারা

wnb news 1789624952 COZkjw

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ প্রকল্প-এর আওতায় দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন, অ্যাগ্রো-টেক, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সেবা খাতে তরুণদের স্বাবলম্বী করতে এক যুগান্তকারী অর্থায়ন কর্মসূচির সূচনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৮ বছর বা তার কম বয়সী তরুণ উদ্ভাবকেরা কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত তহবিল পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রাপ্ত মোট তহবিলের ১০ লাখ টাকা অফেরতযোগ্য অনুদান এবং বাকি ১০ লাখ টাকা স্বল্প সুদের ব্যাংক ঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়নের এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

উদ্যোক্তা তৈরিতে দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ প্রকল্প একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদনকারীকে কোনো প্রকার স্থাবর জামানত বা বন্ধকি সম্পদ প্রদর্শন করতে হবে না। একই সঙ্গে ঋণের ওপর আরোপিত সুদের হার রাখা হয়েছে সর্বনিম্নে, যা ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। মূলত জামানতের বাধ্যবাধকতা না থাকা এবং সুদের হার কম হওয়ায় নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে আসা তরুণরা সহজেই নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের ২৮ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক নিজ উপজেলার ব্যাংকিং শাখায় কোনো ধরনের আবেদন ফি প্রদান ছাড়াই এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা। এসব জেলার মোট ৬৪টি উপজেলা থেকে প্রথম ধাপে ৬৪০ জন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাকে নির্বাচন করা হবে।

প্রথম ধাপের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে আর্থিক সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত ল্যাব সাপোর্ট দেওয়ার বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থায়নের শৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু কঠোর শর্তও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও অনুদানের অংশটি অফেরতযোগ্য, তবে কোনো উদ্যোক্তা যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে তার অনুদানের অর্থটি সাধারণ সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং উক্ত উদ্যোক্তা খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হবেন।

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটানো এবং যুবসমাজকে কর্মসংস্থানমুখী করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রান্তিক ও মফস্বল এলাকার অনেক মেধাবী তরুণ কেবল পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা বাস্তবায়ন করতে পারছিলেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করা হবে। সার্কুলার প্রকাশের পর থেকে পুরো এক মাস ধরে দেশের নির্ধারিত শাখাগুলোতে তরুণ উদ্যোক্তাদের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উদ্ভাবকদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত করা গেলে এই কর্মসূচি বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে একটি নতুন গতির সঞ্চার করবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *