Marketing

স্টার্টআপে ৪০০ কোটি টাকার তহবিল চালু করল সরকার, বেসরকারি বিনিয়োগের আহ্বান

wnb news 1789592635 zrQqz5

স্টার্টআপে ৪০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের মাধ্যমে দেশের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ নামের এই নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের নেওয়া এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশি-বিদেশি মূলধন আকর্ষণ এবং স্থানীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তা থাকা সত্ত্বেও কেবল পুঁজির অভাবে অনেক সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। এই বৈষম্য দূর করতে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১১ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন করেছে। তবে এই খাতকে আরও গতিশীল করতে সরকারি প্রয়াসের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার জোর আহ্বান জানান তিনি।

নতুন এই তহবিলের আওতায় পেশাদারিত্ব ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে উদীয়মান ব্যবসাগুলোকে কেবল অর্থায়নই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্কিং সাপোর্ট প্রদান করা হবে। নীতি নির্ধারকদের মতে, উদ্ভাবনভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত বিকাশ লাভ করলে দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতের বিকাশ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। নতুন স্টার্টআপগুলোর জন্য মূলধনের পাশাপাশি সঠিক মেন্টরশিপ ও বাজারসংযোগ অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অর্জিত মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডের সামগ্রিক কাঠামো ও কৌশল তুলে ধরেন। এ সময় যোগ্য ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (REOI) আহ্বান করা হয়। বিশ্বস্ত ও দক্ষ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে এই ৪০০ কোটি টাকার মূলধন পর্যায়ক্রমে কার্যকর স্টার্টআপগুলোতে পৌঁছানো হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাত প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করলেও স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। নবগঠিত এই ফান্ড অব ফান্ডস দেশের এই বিনিয়োগ ঘাটতি পূরণ করে এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

Published with WpNewblogwww.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *