Marketing

বাংলা কিউআর লেনদেনে মিলবে তাৎক্ষণিক টাকা, খরচেও ছাড় ও নতুন সুবিধা

image (2)

দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি প্রসারে বাংলা কিউআর লেনদেন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা মাত্রই সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবে জমা হচ্ছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে লেনদেন খরচ এবং চালু করা হয়েছে পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ প্রণোদনা ব্যবস্থা।

রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক কেনাকাটার এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, ফুচকা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনা। নতুন এই ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র ও বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী বাড়তি কোনো চার্জ ছাড়াই যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে সহজ ও নিরাপদ উপায়ে অর্থ গ্রহণ করতে পারছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরে অর্থ পরিশোধের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি সম্পূর্ণ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের বিনা খরচে কিংবা অত্যন্ত নামমাত্র খরচে পেমেন্ট সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে, যা ডিজিটাল লেনদেনে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে উৎসাহিত করতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার সুযোগও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতায় সম্পাদিত সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে লেনদেন সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠান ০.১০ শতাংশ এবং কার্ড বা হিসাব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে। ফলে প্রান্তিক রিটেইল বিক্রেতার পাশাপাশি নিবন্ধিত ট্রেড লাইসেন্সধারী মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোও এই ইনসেনটিভের সুফল পাবে।

বাংলা কিউআর লেনদেনের পরিধি আরও সার্বজনীন করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি বা পিটুপি সেবা। এই সুবিধা চালু হলে গ্রাহকরা কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়া সরাসরি নিজেদের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে অন্য যেকোনো ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এছাড়া সরাসরি স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি মোবাইল গ্যালারিতে সংরক্ষিত কিউআর কোডের ছবি আপলোড করেও লেনদেন নিষ্পত্তির সুবিধা যুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, দেশে ক্যাশলেস পেমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত জুন মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন হলেও সেপ্টেম্বর নাগাদ তা সাড়ে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজারে। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক মূল্য ২৮ কোটি টাকা থেকে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টকে এই একীভূত কিউআর কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, প্রযুক্তিগত সহজীকরণ, তাত্ক্ষণিক পেমেন্ট সেটেলমেন্ট এবং শূন্য ফি কাঠামোর ফলে আগামী দিনে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে। নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ কাটানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতকেও বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *