এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে নীতিগত সহায়তার ঘোষণা সরকারের: ইউএপিতে ‘নিপ্পন এআই দোজো’ সম্পন্ন
4 October 2026 —
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বিতা অর্জনে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণায় এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিশেষ আশ্বাস দিয়েছে সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬’-এর চূড়ান্ত প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে গতিশীল করতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে টিকিয়ে রাখতে বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বদেশী ডেটাসেট ও স্থানীয় অ্যালগরিদম উদ্ভাবনে তরুণ গবেষকদের গভীরভাবে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
দেশের বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধান অতিথি জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, অত্যাধুনিক জিপিইউ (GPU) ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের অভাব বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব স্থানীয় কারিগরি বাধা দূর করতে এবং কার্যকর অবকাঠামো গঠনে উপযুক্ত পথনকশা বা রোডম্যাপ তৈরিতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি), জাপানের শোয়া গিকেন করপোরেশন এবং এআই সামুরাই জাপানের যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি এবং ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ।
অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্বে ইউএপি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রশিক্ষণার্থীরা এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ ও বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান সংবলিত প্রকল্প প্রদর্শন করেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় ইউএপির একটি গবেষক দল বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অনুষ্ঠান শেষে সফল অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিশেষ সনদপত্র ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন এই ধারা এবং জাপান-বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত যৌথ উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত হলে দেশেই বিশ্বমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com