চুয়েট উপাচার্যের এসএমএসে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান ঘিরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ক্ষোভ
17 October 2026 —
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আশ্রয় নিয়ে মুঠোফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জরুরি সভা ডেকে বিতর্কের মুখে পড়েছেন চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদের এই ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, রেজিস্ট্রার দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক বিধিবদ্ধ নোটিশ ছাড়া কেবল এসএমএসে সভা ডাকার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও পর্ষদ সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের টানা ৩০ ঘণ্টার অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন ছিলেন চুয়েট উপাচার্য। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউসে ওঠেন এবং সেখান থেকেই সিন্ডিকেট সদস্যদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে নির্ধারিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধিবদ্ধ নিয়ম না মেনে কেবল একক বার্তায় নীতি নির্ধারণী সভা আহ্বানের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা। তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন স্পষ্ট জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যে কোনো পর্ষদ সভার প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা অবশ্যই রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি হতে হয়। এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক সভার বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। একই সঙ্গে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রশিদুল হাসান এসএমএস পাওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ছুটিতে থাকায় উপস্থিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।
এই নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকট ও অচলাবস্থার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ সেপ্টেম্বর, যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সালাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সরকারের এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করে সব ধরণের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন এবং অপসারিত উপাচার্যের পুনর্বহাল দাবি জানান।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি একযোগে কর্মবিরতি শুরু করে। এর ফলে টানা ২৩ দিন ধরে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টির যাবতীয় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে আছে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর উপাচার্য বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের সহায়তায় প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে উত্তাপ চরম রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৩০ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বার্তা—উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com