Marketing

চুয়েট সিন্ডিকেট সভা বর্জন করলেন শিক্ষকরা, এসএমএসে বৈঠক ডাকার অভিযোগ

wnb news 1792206194 PAou1L

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্যের আহ্বানে আয়োজিত একটি জরুরি অনলাইন চুয়েট সিন্ডিকেট সভা বর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি ও রেজিস্ট্রারের দাপ্তরিক নোটিশ ব্যতিরেকে কেবল ব্যক্তিগত মুঠোফোনের বার্তায় সভার সময় নির্ধারণ করার প্রতিবাদে শিক্ষকরা এ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন। ঘোষিত সময় অনুযায়ী অনলাইন মাধ্যমে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকই ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রমে অংশ নেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক আইন ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম কেবল মোবাইল ফোনের ক্ষুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক আহ্বান করেন। দাপ্তরিক কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর ছাড়া সর্বোচ্চ ফোরামের সভা ডাকার এমন পদক্ষেপে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ভেঙে ব্যক্তিগত মেসেজে সভা ডাকার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

অনলাইন বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো শিক্ষকের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেটের বহিঃস্থ সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম তুলে ধরে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি অনুযায়ী সিন্ডিকেটের আনুষ্ঠানিক নোটিশ সর্বদা রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জারি করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রেজিস্ট্রারের অনুমোদন ও দাপ্তরিক চিঠি ছাড়া কেবল মোবাইল বার্তার ওপর ভিত্তি করে ডাকা সভার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এছাড়া ব্যক্তিগত ছুটির কারণে অন্য এক ডিনও উক্ত প্রক্রিয়ার সভায় অংশ নিতে অপারগতার কথা আগেই জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমের পদায়নকে কেন্দ্র করে চুয়েট ক্যাম্পাসে বেশ কিছুদিন ধরেই তীব্র প্রশাসনিক ও একাডেমিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। তাঁর নিয়োগ বাতিল করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক যৌথভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি পালন করছেন।

একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও নিয়মিত কর্মবিরতি এবং সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। ফলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্তরের দৈনন্দিন পরিচালনা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত আইনি নিয়ম মেনে উদ্ভূত সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চুয়েটের সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *