প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার: সরকারি কর্মচারীসহ সিণ্ডিকেটের জালে চাকরির পরীক্ষার্থীরা
24 October 2026 —
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। গত শুক্রবার রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করার সময় রেশমা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সময় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩) ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের মূল সমন্বয়কদের আইনের আওতায় আনে।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই হোয়াটসঅ্যাপসহ একাধিক ডিজিটাল মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১১টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন—পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম। চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন নামে দুই চাকরিপ্রার্থীকেও আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ৮টি আধুনিক স্মার্টফোন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র, প্রচুর পরিমাণ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, আসল সনদপত্র, ব্যাংক চেক এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পরীক্ষার দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদের ফোনে একটি অজানা উৎস থেকে প্রশ্নপত্রের ছবি আসে। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর পূর্ণাঙ্গ স্পষ্ট প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন এবং নূর মোহাম্মদ নিজে উত্তর সমাধান তৈরি করে ইমদাদুল ও অন্যদের কাছে পাঠান। চক্রটি ব্যাংক চেক, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও নগদ চুক্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছিল।
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, জালিয়াতি চক্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য সরকারি নিয়োগেও অর্থ লেনদেন করত। প্রশ্নফাঁসের প্রকৃত মূল উৎস শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষা ও সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিজিটাল নজরদারি আরও বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com