ডিজিটাল লেনদেনেই ভরসা: টানা ৫ দিন ব্যাংক বন্ধের মাঝে সচল ফিনটেক খাত
22 October 2026 —
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হওয়া টানা ৫ দিনের ছুটির সময় নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল লেনদেন সেবা প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজারের (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) স্বাভাবিক কাজ স্থবির থাকছে। তবে দীর্ঘ এই অবকাশে ব্যাংক বুথগুলোতে নগদ ক্যাশ তোলার বাড়তি চাপ সামলাতে গ্রাহকরা ব্যাপকভাবে কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বাংলা কিউআর কোডের মতো আধুনিক ই-পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছুটির পঞ্জিকা অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত থাকায় পুরো বাণিজ্য খাত দীর্ঘ ছুটির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটির আগে ১৭ অক্টোবর একটি বিশেষ কর্মদিবসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খোলা রেখে লেনদেন সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ছুটির সার্বিক কেনাকাটায় দেখা যাচ্ছে, উৎসবমুখী গ্রাহক ও খুচরা বিক্রেতা উভয়েই এখন নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়িয়ে ফিনটেক এবং ক্যাশলেস মাধ্যমগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এটিএম বুথের দীর্ঘ সারি এড়াতে সাধারণ ক্রেতারা কেনাকাটায় কার্ড ও পস (POS) মেশিনের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। বিশেষ করে সুপারশপ ও শপিং মলগুলোতে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমেই সিংহভাগ বিকিকিনি সম্পন্ন হচ্ছে। গ্রাহকদের একাংশের মতে, ছুটির দিনগুলোতে নগদ টাকা তোলার ঝামেলা থেকে রক্ষা পেতে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফিনটেক সেবার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা অনেক সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত।
অন্যদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়েও ক্যাশলেস পেমেন্টের সুফল চোখে পড়ার মতো। ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলের বিক্রেতারা এখন দোকানে সরাসরি বাংলা কিউআর ডিসপ্লে প্রদর্শন করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা স্মার্ট ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে দ্রুত বিল মেটাতে পারছেন। ব্যাংক শাখাগুলো বন্ধ থাকলেও ব্যবসায়ীরা তাদের সংগৃহীত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মহাজন বা সরবরাহকারীদের পরিশোধ করতে সক্ষম হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্লাস্টিক মানি বা কার্ড ব্যবহারের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে ইস্যুকৃত কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২৯ লাখে পৌঁছেছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি অর্থ সরাসরি কেনাকাটা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্যাশলেস উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলা কিউআর পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণে এক বছরে ১০০ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি নিবন্ধিত হয়েছে, যা দেশের অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি নির্দেশনামূলক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ছুটির সময়ে ব্যাংকগুলোকে স্বসংক্রিয় এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স গেটওয়ে এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সার্ভিস সচল রাখার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্র, আকাশ ও স্থলবন্দর সংলগ্ন কাস্টমস সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রাখা হয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com