শাদাব খানের সেঞ্চুরি ও বিশ্বরেকর্ডে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান
26 October 2026 —
লাহোরের ঐতিহ্যবাহী গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শাদাব খানের সেঞ্চুরি এবং হারিস রউফের সঙ্গে শেষ উইকেটে গড়া বিশ্বরেকর্ড জুটিতে ভর করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। রোববার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাত্র ১ উইকেটের জয় পেয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে দলটি। জয়ের জন্য ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর শেষ উইকেটে প্রয়োজন ছিল ৮৮ রান। সেখান থেকে শাদাবের অপরাজিত ১১৩ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস ও হারিস রউফের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে এক অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেয়।
এর আগে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী ইংল্যান্ড। পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে মাত্র ৫২ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে ইংলিশরা। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অদম্য লড়াই চালিয়ে যান দলের ওপেনার বেন ডাকেট। বাঁহাতি এই ব্যাটার ১১১ বল খেলে ১০৫ রানের দুর্দান্ত শতক হাঁকান। শেষ দিকে স্যাম কারানের ৪২ রান এবং গাস অ্যাটকিনসনের অপরাজিত ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদি ৪৬ রান খরচায় ৪টি মূল্যবান উইকেট নেন।
২৪২ রানের মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের সূচনাও মোটেও সুকর ছিল না। ইংলিশ পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ব্যাটাররা একে একে ব্যর্থ হন। দলীয় সংগ্রহে বড় কোনো রান যোগ করার আগেই বিদায় নেন ফখর জামান, বাবর আজম ও সাইম আইয়ুব। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে স্বাগতিকেরা। এরপর শাদাব খান একা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও অপর প্রান্তের ব্যাটাররা উইকেটে টিকতে পারেননি। ফলে ১৫৪ রান তুলতেই স্বাগতিকদের নবম উইকেটের পতন ঘটে।
পাকিস্তান যখন নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে, ঠিক তখনই আট নম্বরে নামা শাদাব খান ও শেষ ব্যাটার হারিস রউফ ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেন। শাদাব আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে ইংলিশ বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান। তিনি ৯৬ বলে ১৩টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১১৩ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই শাদাব খানের সেঞ্চুরি উদযাপনের প্রথম ঘটনা। অন্যদিকে হারিস রউফ ১৯ বল মোকাবিলা করে মূল্যবান ৭ রানে অপরাজিত থাকেন এবং তাঁর ব্যাট থেকেই আসে জয়ের কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি।
শেষ উইকেটে শাদাব ও হারিসের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের পার্টনারশিপ ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে। এই রোমাঞ্চকর রান তাড়ায় অবশ্য কিছু ভাগ্যের ছোঁয়াও পান শাদাব। ব্যক্তিগত ৯৭ রানে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ আউট দিলেও ডিআরএস প্রযুক্তির সাহায্যে আলট্রাএজে ব্যাটের স্পর্শ ধরা পড়ায় বেঁচে যান তিনি। এছাড়া ৯৯ রানে রান আউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে ইংলিশ ফিল্ডাররা। শেষ পর্যন্ত ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে ম্যাচ নিজের করে নেয় পাকিস্তান।
এই স্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচে জয়লাভ করে ফাইনাল নিশ্চিত করল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। অন্যদিকে পর পর ম্যাচ হেরে ইংল্যান্ডের জন্য টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। চাপের মুখে শাদাব খানের এই লড়াকু ইনিংস ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রান তাড়ায় জয়ী ইনিংস হিসেবে ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন ভাস্বর হয়ে থাকবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com