জেন-জির এআই ব্যবহার এশিয়া-প্যাসিফিকে ৫০ শতাংশ: ক্যাসপারস্কির প্রতিবেদন
26 October 2026 —
এশিয়া-প্যাসিফিক (এপাক) অঞ্চলে নতুন প্রজন্ম বা জেন-জির এআই ব্যবহার প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ জেন-জি প্রতিদিন বা প্রায় প্রতিদিনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। পড়াশোনা, তথ্যানুসন্ধান এবং নতুন ধারণা উদ্ভাবনের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এআই-কে কেবল একটি কাজের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত কথোপকথন ও মানসিক সহায়তার বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করছে।
ক্যাসপারস্কির সমীক্ষা অনুসারে, তরুণরা মূলত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে এআই-এর ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছেন। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ ব্যবহারকারী তথ্য অনুসন্ধানে, ৫৪ শতাংশ পড়াশোনার কাজে এবং ৫০ শতাংশ নতুন আইডিয়া বা ধারণা তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তবে একাডেমিক ও পেশাগত বিষয়ের বাইরেও জেন-জিদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রযুক্তিটির প্রবেশ ঘটেছে গভীরভাবে। গবেষণায় দেখা যায়, এপাক অঞ্চলের প্রায় ৩২ শতাংশ তরুণ এআই-কে নিজেদের বন্ধু মনে করেন। দেশভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৩ শতাংশ এবং ভারতে ৩২ শতাংশ তরুণ এআই-কে বন্ধুর চোখে দেখছেন।
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তরুণদের ৩৪ শতাংশই এমন সব সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন, যা তারা অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ থেকে স্পষ্ট যে, প্রাতিষ্ঠানিক বা কাজের টুল থেকে এআই এখন সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও মানসিক সহায়তার বাহনে রূপ নিয়েছে। তবে এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি। এপাক অঞ্চলের ৫১ শতাংশ তরুণ কেবল মাঝে মাঝে নিরাপত্তামূলক সতর্কতা অবলম্বন করেন, আর ৪৫ শতাংশ তরুণ নিয়মিত সাইবার সুরক্ষানীতি মেনে চলেন। বাকি অংশ সতর্কতার বিষয়ে প্রায় উদাসীন।
ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরেও প্রযুক্তি খাতজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা দুর্বলতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ক্যাসপারস্কির ‘কোয়ার্টারলি এক্সপ্লোয়িটস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এআই ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) সেবায় শনাক্ত হওয়া নিরাপত্তা ত্রুটির সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে ৯৩৫টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১১৯টি ছিল অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি। এআই সেবায় পরিচয় যাচাইয়ের দুর্বলতা, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ক্ষতিকর কোড প্রবেশের সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
ক্যাসপারস্কি এআই টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের প্রতিনিধিরা জানান, জেন-জি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো খুব দ্রুত গ্রহণ করতে পারে এবং তারা দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে এআইয়ের নতুন ব্যবহার খুঁজে নিচ্ছে। তবে এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন বা তথ্যের আদান-প্রদানকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত বা সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবা সমীচীন নয়। ব্যবহারকারীদের উচিত যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য—যেমন পাসওয়ার্ড, আর্থিক বিবরণী বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা এবং প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। একই সঙ্গে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও ফিশিং হামলা থেকে বাঁচতে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মধ্যে জেন-জির এআই ব্যবহার বাড়ার এই প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কনজিউমার হার্ডওয়্যার ও ডিভাইসেও এখন দ্রুত যুক্ত হচ্ছে এআই প্রসেসিং প্রযুক্তি। তবে প্রযুক্তি খাতের এই বিকাশ একদিকে যেমন কাজের গতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবহারকারীর সচেতনতা ও সাইবার হাইজিন বজায় রাখা নিশ্চিত না করলে এটি ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিদরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com