Marketing

তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান: গতানুগতিক ধারার বাইরে চিন্তা করার পরামর্শ

image (2)

তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান দেশের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ১৫তম মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নকে নির্দিষ্ট কোনো ছাঁচে বন্দি করা উচিত নয়। তাদের মুক্ত ও স্বাধীনভাবে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসাবিজ্ঞানের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে তরুণদের নিজস্ব স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার পথ তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নীতিনির্ধারক এবং মেডিকেল শিক্ষকরা এক্ষেত্রে কেবল সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে মলিকুলার বায়োলজি এবং জেনেটিকসের মতো বিষকাত বৈশ্বিক পরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি চিকিৎসকদের বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বলেন, হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে এখনও অনেক উন্নয়নশীল দেশের পর্যাপ্ত উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে করে বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসকদের জন্য গবেষণায় অবদান রাখার বিপুল ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সামান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ পেলে এদেশের চিকিৎসকরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চিকিৎসা শিক্ষা খাতে শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে ড. মুহিত বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাদানে যুক্ত করা এবং তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. জিয়া হায়দার স্বাস্থ্য খাতের চার মূল স্তম্ভ—চিকিৎসা শিক্ষা, নার্সিং, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ডায়াগনস্টিক সেবার টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্ট আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনসহ দেশের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, নীতিনির্ধারকদের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য খাতের চিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হবে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *