রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম, ১ নম্বর ইউনিটে কমিশনিংয়ের নতুন ধাপ
31 October 2026 —
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে তিনটি বিশেষ লরিতে করে পারমাণবিক জ্বালানির এ চালান প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। একই সময়ে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি’ পর্যায়ের জটিল কমিশনিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
প্রকল্প ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের প্রস্তুত করা এ জ্বালানি শুক্রবার একটি বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। শনিবার ভোরে ঢাকা থেকে মহাসড়ক পথে বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে নিরাপদ বলয়ে রূপপুরে পৌঁছায় লরিগুলো। যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও যেকোনো ধরনের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পরিবহনকালে মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এদিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি’ পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। এই ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে এবং টারবাইন-জেনারেটর, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরিচালনা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত কার্যক্ষমতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই পরীক্ষামূলক ধাপটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সব নিরাপত্তামূলক মূল্যায়ন ও পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিঙ্ক্রোনাইজেশন বা সংযোগ ঘটানো। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে ইউরেনিয়াম উত্তপ্তকরণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।
সার্বিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে, কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর প্রথম তিন বছর রাশিয়ার রসাটম প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে, যা বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com