মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী, ডাটার সুরক্ষায় গুরুত্বারোপ
1 November 2026 —
জাতীয় নীতি নির্ধারণ ও গবেষণার কাজে সরকারি তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ঢাকার আগারগাঁওয়ে মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এই নতুন অনসাইট ল্যাবের উন্মোচন করেন। উদ্বোধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি সরকারি উপাত্তের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে ডাটা প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির প্রতি জোর তাগিদ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও প্রমানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের মূল ভিত্তি হলো নির্ভুল ও সময়োপযোগী তথ্য। নতুন প্রতিষ্ঠিত এই মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গোপনীয়তা রক্ষা করে গভীরতর উপাত্ত বিশ্লেষণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। পরিসংখ্যান ব্যুরো নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জাতীয় শুমারি ও জরিপের মাধ্যমে যে বিপুল উপাত্ত সংগ্রহ করে, তা আরও সুসংহত এবং গবেষণাবান্ধব উপায়ে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিবিএসের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো এবং নিয়োগবিধি হালনাগাদ করার জন্য তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে দেশে পরিসংখ্যান চর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করতে একটি আধুনিক ‘পরিসংখ্যান একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ল্যাবটি তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। জাতীয় তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হলে সরকারের কর্মসূচি মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন আরও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধিগণ তথ্যের অপব্যবহার রোধে সাইবার নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করেন।
এই ল্যাবে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে উত্তরদাতার গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রাপ্ত উপাত্তে অনুমোদিত প্রবেশাধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবিএস কার্যালয়ে স্থাপিত কেন্দ্রটি একটি সুরক্ষিত অনসাইট ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। ফলে অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ না করে জাতীয় শুমারি ও জরিপের অনামিক ডাটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন, যা সরকারি নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, বিবিএসের মহাপরিচালকসহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, তথ্যের সঠিক ও নিরাপত্তা-সংরক্ষিত ব্যবহারের মাধ্যমে ল্যাবটি উপাত্ত-ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর অবদান রাখবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com