এতিম শিশুর দ্বীনি শিক্ষা অনুদান: আরও ১ লাখ শিশু পাবে সরকারি সহায়তা
31 October 2026 —
চট্টগ্রাম: দেশের অবহেলিত ও এতিমদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আরও ১ লাখ এতিম শিশুর দ্বীনি শিক্ষা অনুদান নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিশুদের প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে সহায়তা দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আল জামেযাতুল আরাবিযাতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসার ১২০তম বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা জানান সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বহু এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থী সরকারি ভাতা ও সহায়তার মাধ্যমে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে চলমান সহায়তা কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত ১ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে। মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী জিরি মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছে এবং আগামীতে তাদের সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।
শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষার ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিটি শিশুর মেধা ও নৈতিকতার সঠিক বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশুর দ্বীনি শিক্ষার পথ যাতে রুদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তবে কেবল সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল মানুষদেরও এতিমদের কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, জিরি মাদরাসা দীর্ঘ সময় ধরে দেশে বড় মাপের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও দ্বীনি ব্যক্তিত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি যাতে ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জিরি মাদরাসার প্রধান পরিচালক মাওলানা মো. খোবাইব বিন তৈয়বের সভাপতিত্বে বার্ষিক এই মহাসম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী। এ ছাড়া পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, আন্তর্জাতিক অতিথি পাকিস্তানের আল্লামা ফয়সাল নদীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই ইসলামী সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাদরাসার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সমবেত হন। পরিশেষে জুমার নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com