Marketing

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নভেম্বরে উদ্বোধন, শুরু হচ্ছে পর্যটন কার্নিভাল

wnb news 1793545330 JOKGL3

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী নভেম্বর মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শনিবার ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার হোটেল ক্রাউন প্লাজায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান। একই সময়ে দেশের পর্যটন খাতকে আরও চাঙ্গা করতে আন্তর্জাতিক এই পর্যটন নগরীতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আগামী মাসেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দেশের পর্যটনশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এই বিমানবন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নভেম্বর মাস থেকেই তিন মাস ধরে চলবে কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল। আন্তর্জাতিক আকাশপথ চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে বড় ধরনের সুবাতাস বইবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশে নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশে একটি নতুন পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে অবস্থিত মোট ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব পর্যটন স্পটগুলোকে আধুনিক ও বিশ্বমানের অবকাঠামো দিয়ে সজ্জিত করার বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যটনশিল্পে বেসরকারি খাতের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ খাতের দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রগতির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। নতুন বিনিয়োগকারী এবং পর্যটন অংশীজনদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে বিনিয়োগবান্ধব বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, বর্তমান যুগে পর্যটন কেবল অবকাশযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল হাতিয়ার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুষম ব্যবহার পর্যটক সেবা, নিরাপত্তা বিধান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, এবারের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রদর্শনীতে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। মেলায় স্থান পাওয়া প্রায় ৩০০টি স্টল থেকে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস, হোটেল, রিসোর্ট এবং ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজ ও ছাড়ের সুযোগ ঘোষণা করে। নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর অগ্রযাত্রায় পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *