এআই এজেন্ট ব্লক করছে আমাজন ও জেপিমরগানের মতো পরাশক্তি ওয়েবসাইটগুলো
3 November 2026 —
অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট বুকিংয়ের মতো জটিল কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে এআই এজেন্ট প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে মেটার ‘মিউজ’ কিংবা পারপ্লেক্সিটির ‘কমট’-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ভার্চুয়াল সহকারীগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে বিশ্বখ্যাত টেক ও ফাইনান্স অবকাঠামোগুলো। বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, তথ্য চুরি বা ডাটা স্ক্র্যাপিং এবং সাইবার নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আমাজন, ওয়ালমার্ট এবং জেপিমরগানের মতো বহুজাতিক প্রকাণ্ড প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বয়ংক্রিয় এজেন্টদের জন্য তাদের ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-কমার্স এবং ব্যাংকিং খাতে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সম্প্রতি মার্কিন শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক জেপিমরগান চেজের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) জেরেমি বার্নাম সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কিছু অননুমোদিত এআই এজেন্ট গ্রাহকদের গোপনীয় লগইন ক্রিডেনশিয়াল ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন করছে। এতে করে মারাত্মক সাইবার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রাহকদের ওপর বর্তাতে পারে। এই ধরনের আর্থিক প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিত ডিজিটাল সহকারীদের সরাসরি প্রবেশ রোধ করাকে এখন মৌলিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একইভাবে ই-কমার্স সাম্রাজ্য আমাজন অভিযোগ তুলেছে যে, পারপ্লেক্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগুলো তাদের অ্যাক্সেস নীতি লঙ্ঘন করছে এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবে বাজারের এই স্নায়ুযুদ্ধে ভিন্ন চিত্রও বিদ্যমান। আমাজন নিজেই ‘বাই ফর মি’ নামে একটি অনুরূপ সেবা পরিচালনা করে, যা অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগত দ্বিমুখী আচরণ আসলে প্রযুক্তি বিশ্বের ভেতরের বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষা ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকেই প্রকাশ্যে এনেছে।
অন্যদিকে, সবক্ষেত্রে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এআই এজেন্টদের পথ রোধ করা হচ্ছে তা নয়। অনেক সময় স্বাভাবিক সিকিউরিটি ফিল্টার বা ক্যাপচা (CAPTCHA) ব্যবস্থার কারণেও বৈধ এজেন্টগুলো তাদের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ওয়ালমার্ট বা জিলোর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে ক্ষতিকর বট ও বৈধ এআই সহকারীর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য চিহ্নিত করার উপযোগী প্রযুক্তি এখনো পুরোদমে কার্যকর নয়। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাদের ডিজিটাল সহযোগীদের মাধ্যমে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে শেষ ধাপে গিয়ে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে নিজেদেরই স্ক্রিনে ফিরে কাজ শেষ করতে হচ্ছে।
এই সংকট নিরসনে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো শীর্ষস্থানীয় সাইবার সিকিউরিটি ও ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা একটি নতুন সার্বজনীন প্রোটোকল বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে, যা ওয়েবসাইটের মালিকদের ক্ষতিকর ডাটা স্ক্র্যাপার বট এবং মানুষের পক্ষে কাজ করা বৈধ এআই এজেন্টদের আলাদাভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে আগামী দিনে সুরক্ষিত অ্যাক্সেস প্রদান সহজতর হবে এবং বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের নতুন একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com