Marketing

এলপিজির দাম বাড়ল ২২৩ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন ২০৬০ টাকা

wnb news 1793664111 kMuf8M

এলপিজির দাম এক লাফে আবারও বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। চলতি নভেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা করা হয়েছে, যা সোমবার রাত আটটা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিপণন কমিশন বাড়ানোর অজুহাতে এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পারিবারিক বাজেটে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিইআরসির ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, নভেম্বরে বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। সেই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে। একই সময়ে সরকারি খাতের এলপি গ্যাস পিএলসি সরবরাহকৃত ১২ দশমিক ৫০ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির কেজিপ্রতি তরল দর ১৬৫ টাকা ৮৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি লিটারের দাম ৩৬ টাকা ৮৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, বিশ্ববাজারে এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বাড়ার কারণেই দেশের বাজারে নতুন দর নির্ধারণ করা প্রয়োজন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর প্রোপেনের মূল্য প্রতি টন ৭২০ ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৭৮০ ডলার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাত ধরে গড় সৌদি সিপির দাম দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ ডলার। আন্তর্জাতিক দর বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া বৃদ্ধি এবং দেশীয় সরবরাহ চেইনে মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন বাড়ানোর ফলেও ভোক্তার কাঁধে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চেপেছে।

মূল্য পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিইআরসি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ ফি ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিলার কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে অক্টোবর মাসেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে বাজারে গ্যাস না পেয়ে ভোক্তাদের দুই হাজার দুইশত থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকায় কিনতে বাধ্য হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম ২২৩ টাকা বাড়ানো অত্যন্ত অযৌক্তিক। এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পারিবারিক ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হলেও কার্যকর বাজার তদারকি দেখা যাচ্ছে না।

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের অসাধু প্রভাব বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়ে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত দামে বিক্রি সুনিশ্চিত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অহেতুক মুনাফা করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *