Marketing

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তার: নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের নতুন চ্যালেঞ্জ

wnb news 1792357332 xSAMWx

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অভূতপূর্ব প্রসারের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে করপোরেট নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষার ঝুঁকি নিয়ে নতুন বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিল্পপণ্য থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস, ক্যাসপারস্কি, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষসংস্থাগুলো এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের সুরক্ষা ও মানবিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করপোরেট নেটওয়ার্কে প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির বাইরে থাকা অনুমোদনহীন ‘শ্যাডো এআই’ (Shadow AI) ব্যবহার এবং ডেটা ফাঁসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস চালু করেছে ‘সফোস এআই ডিফেন্স’। এটি নেটওয়ার্ক ট্রাফিক ও ব্যবহারকারীর ব্রাউজার লেয়ার বিশ্লেষণ করে অনুমোদনহীন এআই অ্যাপ্লিকেশন চিহ্নিত করবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্যমতে, ২০ ২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্টের সংখ্যা ১৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ক্যাসপারস্কির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এআই ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) সেবায় নিরাপত্তা দুর্বলতার ঘটনা প্রায় দশগুণ বেড়ে ৯৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে, যা বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ঠেকাতে এর ওপর মানুষের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা। তিনি এআই প্রযুক্তিতে একটি অকাট্য ‘জরুরি ব্রেক’ বা শাটডাউন ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করেছেন, যাতে যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে মানুষের নির্দেশে প্ল্যাটফর্মটির কাজ স্থগিত করা যায়। তীব্র প্রতিযোগিতার এই বাজারে ব্যবসায়িক সংকটও প্রকাশ পাচ্ছে; যেমন জনপ্রিয় স্টাটআপ ক্যারেক্টার এআই মার্কিন আদালতে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন জানিয়ে ওয়াল্ট ডিজনির কাছে ২০ মিলিয়ন ডলারে নিজেদের নির্দিষ্ট সম্পদ বিক্রির চুক্তি করেছে।

অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধ ও কর্মীদের অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বিশ্ব ফোরামে বলেন, এআই কাজের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারলেও নীতিগত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে না। তিনি অ্যালগরিদমের সিদ্ধান্তের ফলে প্রভাবিত কর্মীদের জীবিকা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অধিকার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সাইবার সুরক্ষা ও নীতিনির্ধারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনেও প্রযুক্তির এই নতুন রূপ প্রভাব ফেলছে। ক্যাসপারস্কির সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ জেন-জি তরুণ প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছেন এবং ৩২ শতাংশ তরুণ এটিকে মানসিকভাবে এক ধরনের ‘বন্ধু’ বা সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই বিপুল চাহিদাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশে গ্রামীণফোন একাডেমি তরুণদের জন্য বিশেষ এআই বুটক্যাম্প আয়োজন করে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

প্রযুক্তির এই জোয়ারে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও যুক্ত হচ্ছে এআই-চালিত নতুন নতুন ডিভাইস। প্রযুক্তি ব্র্যান্ড লেনোভো দেশে উন্মোচন করেছে সর্বাধুনিক কোপাইলট+ পিসি ও আইডিয়াসেন্টার এআইও সিরিজ, যেখানে প্রসেসর নিজেই স্বাধীনভাবে এআই কমান্ড প্রসেস করতে পারে। পাশাপাশি স্মার্টফোনে বহুবিধ অ্যাপের কাজ সহজ করতে টেকনো আনছে এজেন্টিক এআই সহকারী ‘এলা ক্ল’ এবং গৃহস্থালি প্রযুক্তিতে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ভিশন বাজারে এনেছে এআই সেলফ-লার্নিং সুবিধাযুক্ত এসি। সব মিলিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন কর্মদক্ষতা বাড়াচ্ছে, তেমনি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য কঠোর নীতি ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *