এআই ব্যবহার বাড়ছে এশিয়া-প্যাসিফিকে: ৫০ শতাংশ জেন-জি তরুণ প্রতিদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চর্চা করছেন
22 October 2026 —
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তরুণ প্রজন্মের দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ ‘জেন-জি’ তরুণ প্রতিদিন বা প্রায় প্রতিদিনই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। পড়াশোনা ও তথ্যানুসন্ধানের পাশাপাশি অনেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বন্ধু এবং মানসিক সমর্থনের উৎস হিসেবেও বিবেচনা করছেন, যা প্রযুক্তি ও মানবীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্যাসপারস্কির পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্রজন্মের তরুণরা মূলত তিনটি প্রধান উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছেন। জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৫৭ শতাংশ ব্যবহারকারী বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানের কাজে এটি ব্যবহার করেন। এছাড়া ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সহায়কের ভূমিকা হিসেবে এবং ৫০ শতাংশ তরুণ নতুন ধারণা বা আইডিয়া তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারস্থ হন। কেবল একাডেমিক কিংবা পেশাগত কাজই নয়, প্রাত্যহিক জীবনের নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তারা এখন এআই প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো তরুণদের মানসিক জীবনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গভীর মেলবন্ধন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রায় ৩২ শতাংশ জেন-জি তরুণ এআই-কে নিজেদের সামাজিক বন্ধু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আঞ্চলিক বিচারে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়ায় সর্বোচ্চ ৩৯ শতাংশ তরুণ এআই-কে বন্ধু মনে করেন। এছাড়া ভিয়েতনামে ৩৫, থাইল্যান্ডে ৩৪, মালয়েশিয়ায় ৩৩ এবং ভারতে ৩২ শতাংশ তরুণ একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। এমনকি ৩৪ শতাংশ ব্যবহারকারী স্বীকার করেছেন যে, তারা এমন অনেক সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত বিষয় এআই-এর সঙ্গে আলোচনা করেন, যা অন্য কোনো মানুষের কাছে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।
তবে দৈনন্দিন জীবনে এআই ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির ব্যাপারে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রযুক্তিসচেতন এই প্রজন্মের ৪৫ শতাংশ তরুণ নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চললেও ৫১ শতাংশ কেবল মাঝে মাঝে সতর্কতা অবলম্বন করেন। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে পাসওয়ার্ড, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, পরিচয়পত্র এবং ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মতো সংবেদনশীল ডেটা হাতছাড়া হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ক্যাসপারস্কি এআই টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের প্রতিনিধিরা জানান, জেন-জি প্রজন্ম খুব দ্রুত উদীয়মান প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে। তবে এআই-এর সঙ্গে কথোপকথন যত ব্যক্তিগত বা গভীর মনে হোক না কেন, এটিকে কোনোভাবেই শতভাগ নিরাপদ বা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। সংবেদনশীল ডেটা শেয়ার না করা এবং যেকোনো প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
একইভাবে ক্যাসপারস্কির শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল কাজের সাধারণ হাতিয়ার নয়, এটি মানুষের সার্বক্ষণিক সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তিকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য তরুণদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে যে, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে তাদের প্রদত্ত তথ্য প্রসেস ও সংরক্ষণ করে। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সাইবার সচেতনতা মেনে চলা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন সময়ের মূল দাবি।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com