বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে নতুন সুবিধা
28 September 2026 —
দেশে নগদ অর্থহীন বা ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করতে বাংলা কিউআর লেনদেন প্রসারে নতুন প্রণোদনা সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে জারিকৃত এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট সেবাদানকারী দুই প্রতিষ্ঠানকে মাসিক ভিত্তিতে মোট ৬ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর ফলে দেশে পেমেন্ট ইকোসিটেম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রণোদনার এই অর্থ সরাসরি কোনো সাধারণ গ্রাহক বা মার্চেন্ট পাবেন না। এটি মূলত লেনদেন সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠান বা অ্যাকুয়ারিং ব্যাংক/এমএফএস এবং গ্রাহকের হিসাব পরিচালনাকারী বা ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে বণ্টন করা হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরগুলোর জন্য এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
নতুন নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে মোট মূল্যের ০.১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২ টাকা। আর ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ হাজার টাকার একটি কেনাকাটা বা লেনদেনে দুই প্রতিষ্ঠান মিলে সর্বমোট ৬ টাকা প্রণোদনা অর্জন করবে। একইভাবে ১ হাজার টাকার লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ২ টাকা করে পাবে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম সার্কুলারের মাধ্যমে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে সীমিত প্রণোদনা সুবিধা চালু করেছিল। তবে রোববারের নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে আগের বিধান প্রতিস্থাপন করে প্রণোদনার পরিধি অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে করে কেবল ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের আওতায় থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতারাই নন, ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্য যেকোনো মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পন্ন হওয়া বাংলা কিউআর লেনদেনও এই ইনসেনটিভ সুবিধার আওতায় এলো।
ডিজিটাল অর্থপ্রবাহ উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্টদের বাংলা কিউআর কোড প্রদানে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে পেমেন্ট অবকাঠামো প্রসারে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর যে খরচ হয়, এই প্রণোদনার মাধ্যমে তা কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ইন্টারওপারেবল’ বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মান উন্নয়নে এবং গ্রাহক ও বিক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। মোবাইল অ্যাপের হোম পেজে সহজে দৃশ্যমান আইকন যুক্ত করা এবং তাৎক্ষণিক অর্থ নিষ্পত্তির সুযোগ চালুর মতো উদ্যোগগুলো দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com