Marketing

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস: জালিয়াতি চক্রের ৭ জন গ্রেপ্তার, ১ জনের কারাদণ্ড

wnb news 1793037764 HuqVvn

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩)। অন্যদিকে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় স্মার্টফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর চেষ্টাকালে রেশমা আক্তার নামের এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের বাছাই পরীক্ষায় এ বিপুল ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম। এছাড়া এই চক্রের সহযোগী চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজনকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ডিজিটাল অপরাধে ব্যবহৃত ৮টি আধুনিক স্মার্টফোন, এক সেট প্রশ্নপত্র, ১০০ ও ৫০ টাকা মূল্যের ১২০টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, মূল সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৯টি চেক এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিং, ব্লাঙ্ক ব্যাংক চেক এবং স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর ছায়া তদন্তে নেমে ডিজিটাল চ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার সূত্র ধরে এসআরবি অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরীক্ষার দিন খুব ভোরে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি আসে এবং পরবর্তীতে সকালের দিকে স্পষ্ট প্রশ্ন ও উত্তর তৈরি করে চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উৎস শনাক্তে ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *