Marketing

ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের জামিন: জালিয়াতি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান্ডামার্টের শীর্ষ নির্বাহীদের

wnb news 1790391850 4bub2T

প্রতারণা, ডেটা মুছে ফেলা এবং সরবরাহকৃত পণ্যের কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় নিম্ন আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই হাইকোর্ট থেকে ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আম্বারিন রেজাসহ শীর্ষ ৫ কর্মকর্তা এই আগাম জামিন লাভ করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) হাইকোর্ট তাঁদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গুলশান থানার তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিলেন।

উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া ফুডপান্ডার অন্য চার কর্মকর্তা হলেন—প্রতিষ্ঠানটির কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৫০৬ ধারার মামলায় এ আদেশ দেন। গুলশান থানা পুলিশ দীর্ঘ এক বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে অভিযোগে তথ্যগত সত্যতা পাওয়ার পর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

মামলার এজাহার ও নথিসূত্রে জানা যায়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) এবং ‘আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’-এর স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গুলশান থানায় পৃথক চারটি মামলা করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সাল থেকে চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত খাদ্যদ্রব্য ও গৃহস্থালি পণ্য সরবরাহ করা হলেও পান্ডামার্ট কর্তৃপক্ষ কয়েক কোটি টাকার পাওনা বকেয়া রেখে নামমাত্র অর্থ জমা দেয়। এছাড়া নোটিশ ছাড়াই পণ্য নষ্টের অজুহাতে অজ্ঞাত ব্যক্তির জাল স্বাক্ষরে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) চালান তৈরি এবং একই দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পণ্য ফেরত দেখানোর কারসাজি করা হয়। এমনকি ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে পান্ডামার্টের মূল সফটওয়্যার থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যও মুছে ফেলা হয় বলে বাদী অভিযোগ করেন।

এদিকে পরোয়ানা জারি ও হাইকোর্ট থেকে ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের জামিন পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ফুডপান্ডার সিস্টার কনসার্ন ‘ডেলিভারি হিরো স্টোরস’ (ডিএইচ স্টোরস) এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আইনমান্যকারী করপোরেট সংস্থা হিসেবে তারা বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং পরোয়ানা জারি একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। বাণিজ্যিক ও পাওনা লেনদেনসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকেই মামলাগুলোর উৎপত্তি। ডিএইচ স্টোরসের দাবি, বাদীর কাছে তাদের পাওনা অর্থ ও চেক ডিজঅনারের বিষয় থাকায় তিনি নিজের দায় এড়াতে এবং জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি করতে এই পাল্টা ফৌজদারি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বিবৃতিতে ডিএইচ স্টোরস আরও সতর্ক করে বলেছে, একটি চুক্তিভিত্তিক বা সাধারণ বাণিজ্যিক বিরোধকে অহেতুক ফৌজদারি মামলায় রূপান্তরের চেষ্টা দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে বাদী শিহাব মাহমুদ বশির আদালতের এই আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বকেয়া পাওনা উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *