Marketing

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার: বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

image (2)

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসার ঘটছে, যা দেশের অর্থনীতি, টেলিযোগাযোগ সেবা এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় এক নতুন ডিজিটাল রূপান্তরের সূচনা করেছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে মার্কিন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আগামী পাঁচ বছরে দেশে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে।

দেশের টেলিকম খাত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পৌঁছে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন তাদের মাইজিপি অ্যাপে ‘ওয়ানএআই’ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গ্রক ও জেমিনাইয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। একইভাবে রবি আজিয়াটা তাদের অ্যাপে ‘রবি এআই স্পেস’ চালু করে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট কার্ডের সীমাবদ্ধতা দূর করে সরাসরি স্থানীয় ডাটা প্যাকেজের মাধ্যমে এআই সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশের শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

বিনিয়োগ ও সরকারি নীতিমালার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে অ্যামচেমের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সাক্ষাৎ করে সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্স জোরদারের তাগিদ দিয়েছে। অপরদিকে বিটিআরসি কার্যালয়ে গুগলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দেশে এআই ল্যাব স্থাপন, প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় পেমেন্ট সুবিধা তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এ সময় এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ক্ষতিকর কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের প্রযুক্তি চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে এআই-এর অপব্যবহার রোধ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলায় স্বয়ংক্রিয় অপপ্রচার চালাতে ক্লড চ্যাটবট ব্যবহারের ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের গবেষক ও প্রযুক্তি প্রধানদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে, যা সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

শিল্প খাত ও ডিজিটাল সেবার পাশাপাশি দেশের ভোক্তা বাজারেও এআই-সংবলিত পণ্যের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। লেনোভো তাদের লুনার লেক প্রসেসরসংবলিত এআই অল-ইন-ওয়ান পিসি ও উচ্চক্ষমতার গেমিং ল্যাপটপ বাজারে এনেছে, যা লোকাল ডিভাইসে এআই কমান্ড প্রসেসিং সহজ করছে। এছাড়া আরএফএল-এর ‘ভিশন’ ব্র্যান্ড সেলফ-লার্নিং এআই এসি বাজারে এনেছে এবং স্যামসাং, এলজি ও হাইয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তির ওয়াশিং মেশিন সরবরাহ করছে। সব মিলিয়ে, স্থানীয় অবকাঠামোর মানোন্নয়ন এবং নিরাপদ প্রযুক্তির প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের সুদৃঢ় অর্থনীতির দিকে সফলভাবে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Published with WpNewblogwww.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *