ম্যানচেস্টার সিটির আপিল: আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের রায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্লাবটি
3 October 2026 —
ম্যানচেস্টার সিটির আপিল আবেদনের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ক্লাবটি। গত সপ্তাহে এক স্বাধীন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা লড়াইয়ের ঘোষণা দেয়। ওই রায়ে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত টানা নয়টি মৌসুমে আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই রায়ের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুরো সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছে।
প্রিমিয়ার লিগের গঠিত স্বাধীন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, নির্দিষ্ট নয় মৌসুমে ক্লাবটির আর্থিক বিবরণীতে বড় ধরনের অসংগতি ছিল। সেখানে অভিযোগ আনা হয়, ক্লাবটি বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয় গোপন রেখে আর্থিক নিয়ম মেনে চলার একটি কৃত্রিম চিত্র তৈরি করে। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়কালে ক্লাবের প্রায় ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রভাব ফেলা হয়েছিল, যা লিগের আর্থিক স্বচ্ছতা কাঠামোর পরিপন্থী।
শুরু থেকেই এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে ইংলিশ জায়ান্টরা। কমিশনের দেওয়া রায়ের পরপরই এক বিবৃতিতে ক্লাবটি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। এতে বলা হয়, কমিশনের এই মতামতে আইন, নীতি ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর ভুল রয়েছে। ফলে এই রায়কে কোনোভাবেই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে ম্যানচেস্টার সিটি আরও জানায়, প্রিমিয়ার লিগের আনা প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে তাদের কাছে অখণ্ডনীয় প্রমাণের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। তারা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ক্লাবের এই আপিল আবেদন ফুটবল বিশ্বে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে মামলাটি এখন একটি নিরপেক্ষ আপিল বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে। প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, জুডিশিয়াল প্যানেলের চেয়ারম্যান তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বাধীন বোর্ড গঠন করবেন। আপিলের শুনানির পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হবে। শুনানি শেষে এই বোর্ড কমিশনের রায় বহাল রাখা, পুরোপুরি বাতিল করা কিংবা পরিমার্জিত শাস্তি আরোপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীন কমিশন ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্ট কর্তন বা আর্থিক জরিমানার মতো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। শাস্তি ঘোষণার আগেই ক্লাবের পক্ষ থেকে এই আপিল করা হলো। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী এই ক্লাবের আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর ফুটবল প্রেমীদের।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com