Marketing

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন চালু হলে অনিয়ম ও বাল্যবিবাহ কমবে: আইনমন্ত্রী

image (2)

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে বৈবাহিক অনিয়ম, বাল্যবিবাহ এবং অননুমোদিত বহুবিবাহ কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে দেশ ও বিদেশ থেকে সহজেই তা যাচাই করা যাবে। এর ফলে তথ্য গোপন করে পুনর্বিবাহ বা পরবর্তীতে বিবাহ অস্বীকারের অপচেষ্টা অনেকাংশে বন্ধ হবে।

রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আয়োজিত এক আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায়। উদ্বোধনী পর্যায়ে ৫টি জেলার ২৭ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার বা বিবাহ নিবন্ধক এই নিবিড় প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশে বার্ষিক বিবাহের সংখ্যা, বাল্যবিবাহের হার এবং বিবাহ-সংক্রান্ত আইনের সঠিক প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ করা সরকারি কর্তৃপক্ষের জন্য সহজ হবে। কোনো ব্যক্তি পূর্বে বিবাহ করেছেন কি না, করে থাকলে কতটি করেছেন এবং নতুন বিবাহের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে যেকোনো নারী বা পুরুষ সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পূর্ববর্তী বৈবাহিক তথ্য জেনে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা সমাজে বহুবিবাহের প্রবণতা হ্রাস করবে।

বৈবাহিক তথ্যের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নিবন্ধিত তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর ভুয়া উত্তরাধিকার দাবির আইনি জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদী মামলা-মোকদ্দমা এড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কাজের সূত্রে বা অন্য প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার সময় নাগরিক বৈবাহিক তথ্য সহজে যাচাই করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে এই অনলাইন ব্যবস্থা জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ভূমিকার প্রশংসা করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ডিজিটাল ব্যবস্থার বাস্তবায়নে নিবন্ধকদের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকার অন্যান্য নিবন্ধকদেরও দক্ষ করে তুলবেন। এছাড়া সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি, যা দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন ও তদবিরের সুযোগ কমাবে।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচীতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *