রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম পৌঁছাল ঈশ্বরদীতে, কড়া নিরাপত্তায় পরিবহন
4 October 2026 —
পাবনা: কড়া সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুরক্ষাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম বহর নিরাপদে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশেষায়িত তিনটি লরিতে করে এই তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে নেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে করে জ্বালানির এই চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পাবনা পর্যন্ত পুরো পরিবহনজুড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা নিশ্ছিদ্র প্রটোকল বজায় রাখে।
প্রকল্প সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে রাশিয়া থেকে উড়াল দেওয়া বিশেষ বিমানটি আকাশপথে ভারত হয়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দরেই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তেজস্ক্রিয় জ্বালানির চালানটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সুরক্ষা যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শনিবার সকাল সোয়া সাতটা নাগাদ ঢাকা থেকে সড়কপথে ঈশ্বরদীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে সুরক্ষিত গাড়িবহরটি। যাত্রাপথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, বঙ্গবন্ধু সেতু ও নাটোর হয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে লরিগুলো রূপপুর প্রকল্পে প্রবেশ করে।
প্রকল্প এলাকায় ইউরেনিয়ামের চালানটি পৌঁছানোর পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তা বুঝে নেন। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়াতে মহাসড়কে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়। নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া মহাসড়কের বেশ কিছু পয়েন্টে সাময়িকভাবে সাধারণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, যা বহরটি নিরাপদে পৌঁছানোর পরপরই স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে রূপপুরে প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক ইউরেনিয়াম গত বছর দেশে আসার পর তা ইতিমধ্যে চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট জ্বালানি চাহিদা পূরণে চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি পৃথক ফ্লাইটে পারমাণবিক জ্বালানির অতিরিক্ত চালান দেশে পৌঁছাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং ও অতিরিক্ত প্রয়োজনের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের মূল সরবরাহের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পর্যায়ক্রমে আকাশপথে আনা হবে।
বর্তমানে প্রথম ইউনিটটি চালু করার অংশ হিসেবে বিভিন্ন কারিগরি ও সেফটি ট্রায়াল দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে রিঅ্যাক্টরের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের (অটোমেটিক ডিপ্রেসারাইজেশন ভালভ) চূড়ান্ত নিরীক্ষা সম্পন্ন করার কাজটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কারিগরি দল জানিয়েছে, ছোটখাটো কিছু সমন্বয় শেষে শীঘ্রই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক ও পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্প চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com