ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দুপুরে: প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
19 October 2026 —
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জন ও নাটকের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে যাচ্ছেন তিনি। সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক বার্তা দিয়ে এই কথা জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনভুক্ত গেন্ডারিয়া এলাকায় একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায় এবং তাঁর সহযোগীদের কঠোর ভূমিকা পালন করতে লক্ষ্য করা যায়। একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য ছাড়া এভাবে সরাসরি অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
উক্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ায় যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই রাতে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই খবরকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিবও জানিয়েছিলেন যে এমন কোনো নির্দেশনা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগেরও কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
তবে রোববার রাতের সেই অস্বীকৃতির পর সোমবার সকালে নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি। ইশরাক হোসেন ফেসবুকে স্পষ্ট জানান, তিনি দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নিজের ইস্তফার ঘোষণা দেবেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে না থাকলেও একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন। দেশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া এবং রাজনৈতিক দল জোরদার করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, গেন্ডারিয়ার সেই ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগ ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বেআইনি বিষয় উঠে আসলে প্রযোজ্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে।
ইশরাকের এই সিদ্ধান্ত ও সার্বিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে এবং আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঠিক কী ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেন, সেদিকেই এখন দেশবাসীর দৃষ্টি রয়েছে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com