রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ২৫ অক্টোবর পাওয়ার স্টার্টআপ, ডিসেম্বরে গ্রিডে বিদ্যুতের লক্ষ্য
19 October 2026 —
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পাওয়ার স্টার্টআপের পরবর্তী কারিগরি ধাপ। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা গেলে প্রাথমিকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বর মাসেই দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাওয়ার স্টার্টআপের পর রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ দিন সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। এই সময়ে প্রতিটি ধাপের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সূক্ষ্মভাবে যাচাই করবেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। সব পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারে, যা ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মূল পথ সুগম করবে।
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরে ফিশন বিক্রিয়া সংক্রান্ত চূড়ান্ত কারিগরি যাচাই-বাছাই চলছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মূলত নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ও জেনারেটর ঘোরানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। ফলে রিঅ্যাক্টরে ফিশন শুরু হওয়া এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাঠানো এক বিষয় নয়। মধ্যবর্তী প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পাওয়ার স্টার্টআপ সফল হওয়ার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে প্রায় ১০ মাসব্যাপী ‘ট্রায়াল অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনা। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা বিভিন্ন মাত্রায় বাড়িয়ে ও কমিয়ে এর স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এই দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশি অপারেটররা রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিচালনায় দক্ষ করে তুলবে।
প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়ায় সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা কঠিন। পরীক্ষার ফল ও নিয়ামক সংস্থা বায়েরার অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করেই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারিত হবে। কোনো পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি দেখা দিলে পুনরায় পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যা সময়সূচিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা পর্যালোচনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি বিশেষ টিম আগামী ৮ থেকে ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে সফর করবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত ২,৪০০ মেগাওয়াট মোট উৎপাদনক্ষমতার এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগের সূচনা ঘটবে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী শক্তি নিরাপত্তায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com