ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম প্রযুক্তি উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
10 October 2026 —
দেশের শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার লক্ষ্যে সমন্বিত ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন এই প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিজস্ব কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য বিশেষ সৌরভিত্তিক ইলেকট্রনিক্স পণ্য উদ্ভাবন করেছে দেশীয় টেক জায়ান্ট ওয়ালটন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়ালটন তাদের নিজস্ব কারখানায় রূফটপ ও ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা দেশের একটি বড় জেলা শহরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমপরিমাণ। উৎপাদিত এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের অধিকাংশ অংশ নিজেদের কারখানায় ব্যবহারের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে ওয়ালটন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা পুরো বাংলাদেশে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হ্রাস পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির এই সমন্বয় বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পকে স্বনির্ভর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বাজারে আনা হয়েছে হাইব্রিড প্রযুক্তির ফ্রিজ, এসি এবং স্মার্ট টেলিভিশন। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে এই পণ্যগুলো ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত হতে সক্ষম। সৌরবিদ্যুতের জোগান কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ গ্রহণ করে পণ্যগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সাশ্রয় হবে।
এছাড়া ইএসএস বা এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম সমন্বিত করে নতুন মডেলের ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, বিএলডিসি ফ্যান এবং রাইস কুকার যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ই-বাইকের ব্যাটারিকে জরুরি প্রয়োজনে বাসাবাড়ির ব্যাকআপ বিদ্যুৎ হিসেবে ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। নিরাপদ বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফটোভোলটাইক বা সোলার ক্যাবলও এই ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওয়ালটন নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু দেশীয় বাজার নয়, বরং বাংলাদেশে প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরাই ওয়ালটনের মূল লক্ষ্য।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com